প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুর্কি অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিন সহ বেশিরভাগ আরব এলাকা চলে যায় ইংল্যান্ড- ফ্রান্সের ম্যান্ডেটে। ১৯১৭ সালের দোসরা নভেম্বর বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বালফোর ইহুদীবাদীদেরকে লেখা এক পত্রে ফিলিস্তিনী ভূখন্ডে একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। বেলফোর ঘোষণার মাধমে প্যালেস্টাইন এলাকায় ইহুদিদের আলাদা রাষ্ট্রের সম্ভাবনা উজ্জল হয় এবং বিপুলসংখ্যক ইহুদি ইউরোপ থেকে প্যালেস্টাইনে এসে বসতি স্থাপন করতে থাকে।
১৯০৫ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক হাজার। কিন্তু ১৯১৪ সাল থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত বৃটিশদের সহযোগিতায় ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ২০ হাজারে উন্নীত হয়। এরপর প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনে ইহুদী অভিবাসীদের ধরে এনে জড়ো করা শুরু হলে ১৯১৯ থেকে ১৯২৩ সাল নাগাদ ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ৩৫ হাজারে পৌঁছে যায়। ১৯৩১ সালে ইহুদীদের এই সংখ্যা প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছায়। এভাবে ফিলিস্তিনে ইহুদী অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে এবং ১৯৪৮ সালে সেখানে ইহুদীদের সংখ্যা ৬ লাখে উন্নীত হয়।
১৯১৮ সালে বৃটেনের সহযোগিতায় গুপ্ত ইহুদী বাহিনী “হাগানাহ” গঠিত হয়। এ বাহিনী ইহুদীবাদীদের অবৈধ রাষ্ট্র তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথমে ফিলিস্তিনী জনগণের বিরুদ্ধে ইহুদীবাদীদের সহায়তা করা হাগানাহ বাহিনীর দায়িত্ব হলেও পরবর্তীকালে তারা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত হয়। ফিলিস্তিনী জনগণের বাড়িঘর ও ক্ষেতখামার দখল করে তাদেরকে ফিলিস্তিন থেকে বিতাড়িত করা এবং বাজার ও রাস্তাঘাটসহ জনসমাবেশ স্থলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফিলিস্তিনীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদের বিতাড়নের কাজ ত্বরান্বিত করা ছিল হাগানাহ বাহিনীর কাজ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনী ভূখন্ডকে দ্বিখন্ডিত করা সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়। জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দ্বিখন্ডিত করার প্রস্তাব পাশ করে নিজেদের মাতৃভূমির মাত্র ৪৫ শতাংশ ফিলিস্তিনীদের এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদীবাদীদের হাতে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এভাবে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েল স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
আর বর্তমানে সে আমেরিকার মদদে একের পর এক অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যায়নাবাদীরা তা দেখেও না দেখার ভান করছে। ধিক বিশ্ব সম্প্রদায় ধিক।
ইসরাইলের পারমানবিক অবস্থা:
ষাটের দশকে দেশটি পারমাণবিক বোমার অধিকারী হয়। সে বছর মিসরসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সর্বাত্মক যুদ্ধ বেধে যায়। যুদ্ধের শুরুতেই ইসরাইলের নেগেভ মরুভূমিতে পারমাণবিক প্রকল্প গুঁড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল মিসরীয় বাহিনীর। কিন্তু প্রেসিডেন্ট কর্নেল জামাল আবদুন নাসের পরিকল্পনাটি বাতিল করে দেন। ভেবেছিলেন, ইসরাইল তখনো পারমাণবিক বোমা বানাতে পারে নি। তাই নেগেভ মরুভূমিতে দিমোনা প্রকল্প গুঁড়িয়ে দেয়া হবে অর্থহীন। কিন্তু তিনি জানতেন না যে, ইতোমধ্যেই ইসরাইল দু’টি পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলেছে এবং বোমা দু’টি নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুতও করে রেখেছে।
১৯৭৩ সালে তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধেও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো বিজয়ী হতে পারে নি। এ যুদ্ধেও ইসরাইলের বিজয়ের মূলে ছিল দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র। যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইসরাইল ১৩টি পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুত করে রেখেছিল। প্রতিটি বোমার ক্ষমতা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত আণবিক বোমার সমান। যুদ্ধে মিসরীয় বাহিনী সিনাই এবং সিরীয় বাহিনী গোলান রণাঙ্গনে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যুহ বারলেভ লাইন তছনছ করে দিয়ে বন্যার মতো ধেয়ে আসতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী মিসেস গোল্ডামায়ার পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের অনুমোদন দেন।
জন্ম থেকেই পরমাণু খায়েস:
জন্মের পর থেকেই ইসরাইলি নেতৃবৃন্দ উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, বৈরি আরব শক্তি পরিবেষ্টিত অবস্থায় পারমাণবিক অস্ত্রই হচ্ছে রাষ্ট্র হিসাবে ইসরাইলের টিকে থাকার গ্যারান্টি। ১৯৪৮সালে ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টায় জড়িত হয়ে পড়ে। ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে বহু মেধাবী ইহুদি বিজ্ঞানী ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে অভিবাসী হিসাবে বসতি স্থাপন করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আর্নেস্ট ডেভিড বার্গম্যান। তিনিই হলেন ইসরাইলের পারমাণবিক বোমার জনক। ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়নের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও উপদেষ্টা বার্গম্যান পরামর্শ দেন যে, পারমাণবিক জ্বালানি হতে পারে ইসরাইলের অপ্রতুল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং দুর্বল সামরিক শক্তির একটি বিকল্প। পারমাণবিক বোমা তৈরি করা ছিল এ পরিকল্পনার অংশ। ১৯৪৮ সালের গোড়ার দিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইহুদি বিজ্ঞানীরা ইউরেনিয়াম মজুদের জন্য নেগেভ মরুভূমি খুঁজে বের করেন। ১৯৫০ সাল নাগাদ তারা বিরশেবার কাছে ও সিডনে নিন্মমানের ইউরেনিয়াম মজুদ খুঁজে পান। ১৯৪৯ সাল নাগাদ বিজ্ঞান বিষয়ক ওয়াইজম্যান ইন্সটিটিউট সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক গবেষণাকে সমর্থন করে। ইসরাইল সরকারের ব্যয়ে পারমাণবিক প্রকৌশল ও পদার্থ বিজ্ঞান অধ্যয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিশীল ইসরাইলি ছাত্ররা বিদেশে গমন করে। ১৯৫২ সালে ইসরাইল গোপনে আণবিক শক্তি কমিশন প্রতিষ্ঠা করে। আণবিক শক্তি কমিশন প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়েই ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
অন্য দেশের অবদান
ফ্রান্সের অবদান:
১৯৪৯ সালে ফরাসি আণবিক শক্তি কমিশনের সদস্য ও বার্গম্যানের বন্ধু পরমাণু বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস পেরিন ওয়াইজম্যান ইন্সটিটিউট পরিদর্শন করেন। তিনি ফ্রান্সের সাচলে’তে একটি নয়া পারমাণবিক গবেষণা স্থাপনায় ইসরাইলি বিজ্ঞানীদের যোগদানে আমন্ত্রণ জানান। পরবর্তীকালে দু’টি দেশে একটি যৌথ গবেষণা সংস্থা স্থাপন করা হয়। ১৯৮৬ সালে পেরিন প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন ও কানাডায় কর্মরত ফরাসি বিজ্ঞানীদের বলা হয়েছিল, গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারলে তারা ফ্রান্সে তাদের জ্ঞান ব্যবহার করতে পারবেন। একই যুক্তিতে ফরাসি বিজ্ঞানী পেরিন ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক উপাত্ত পাচার করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের লস আলামোস ন্যাশনাল গবেষণাগারে একজন ইসরাইলি বিজ্ঞানী কাজ করতেন এবং তিনিই প্রত্যক্ষভাবে স্বদেশে পারমাণবিক জ্ঞান পাচার করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের পারমাণবিক গবেষণা সামর্থ্য সীমিত হয়ে পড়ে। পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে ফ্রান্স ও ইসরাইল পারমাণবিক ক্ষেত্রে একে অপরকে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করেছে। ইসরাইলি বিজ্ঞানীরা ফ্রান্সের মারকিউলে’তে জি- প্লুটোনিয়াম উৎপাদন রিঅ্যাক্টর ও ইউপি-১ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প নির্মাণে সহায়তা করেছিলেন। হেভি ওয়াটার উৎপাদন ও লোগ্রেড ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সংক্রান্ত দু’টি ইসরাইলি প্যাটেন্ট থেকে ফ্রান্স লাভবান হয়েছিল। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ফ্রান্স ও ইসরাইলের মধ্যে বহুক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল।
ইসরাইলকে প্লুটোনিয়াম বিযুক্তকরণ প্রযুক্তিসহ ইএল-৩ টাইপের ১৮ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন একটি ফরাসি গবেষণা রিঅ্যাক্টর সরবরাহে দু’টি দেশের মধ্যে ১৯৫৭ সালের অক্টোবরে চুক্তি হয়। পরে এ রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে ২৪ মেগাওয়াটে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে তার ক্ষমতা ছিল অনেক বেশি। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত এক রিপোর্টে প্রকাশ পায়, এ রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ছিল ১২৫-১৫০ মেগাওয়াট। শুধু প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের জন্য এ রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা এতটুকু বাড়ানো হয়েছিল। কিভাবে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল তা অজানাই থেকে যায়।
আমেরিকার সহযোগিতা:
১৯৬১ সালে দিমোনা রিঅ্যাক্টর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণে ইসরাইলের যুক্তি মেনে নেয়। তবে গোপনে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখে। সুপরিচিত মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ইউজেন ওয়াগনার ও আই আই রাভিকে নামমাত্র পরিদর্শনের অনুমতি দিলেও প্রধানমন্ত্রী বেন গুরিয়ন নিয়মিত আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দানে অব্যাহতভাবে অস্বীকৃতি জানাতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের কাছ থেকে এ স্বীকৃতি আদায় করে যে, সে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে তার পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যবহার করবে এবং বছরে দু’বার মার্কিন পরিদর্শকদের পরিদর্শনের অনুমতি দেবে। ১৯৬২ সালে এ পরিদর্শন শুরু হয় এবং ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। মার্কিন পরিদর্শকরা ইসরাইলের পারমাণবিক স্থাপনার শুধু বহিঃভাগই পরিদর্শন করেন। কিন্তু স্থাপনার ভূগর্ভস্থ অংশ পরিদর্শনের বাইরে থেকে যায়। ভূগর্ভের উপরিভাগে ভুয়া কন্ট্রোল রুম ছিল। কিন্তু ভূগর্ভে প্রবেশ করার পথগুলো পরিদর্শনকালে গোপন রাখা হতো। সিঁড়িগুলো ইটের আস্তরণ দিয়ে ঢেকে রাখা হতো। ইসরাইলি পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শনের তথ্যও গোপন রাখা হতো।
সুয়েজ সংকট:
১৯৫৬ সালের অক্টোবরে মিসরের বিরুদ্ধে সুয়েজ খাল-সিনাই অপারেশনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ফ্রান্স ও ইসরাইল একে অপরকে সহযোগিতা করেছে। ব্রিটেনও এ অপারেশনের সঙ্গে জড়িত ছিল। সুয়েজ সংকটই হচ্ছে ইসরাইলের পারমাণবিক বোমা তৈরির ভ্রূণ। ১৯৫৫ সালে চেকোশ্লোভাকিয়ার সঙ্গে মিসর অস্ত্র চুক্তি সম্পাদন করায় ইসরাইল উদ্বিগ্ন হয়ে উঠে। এ চুক্তির ফলে মিসর সোভিয়েত ব্লকের তৈরি সমরাস্ত্রে তিনগুণ শক্তিশালী হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট নাসের ১৯৫৩ সালে তিরান প্রণালী বন্ধের নির্দেশ দেয়ার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনগুরিয়ন রাসায়নিক ও পারমাণবিকসহ অন্যান্য অপ্রচলিত অস্ত্র তৈরির নির্দেশ দেন। সুয়েজ খাল অপারেশনের ছয় সপ্তাহ আগে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর নির্মাণে সহযোগিতার জন্য ইসরাইল ফ্রান্সের দ্বারস্থ হয়। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শিমন পেরেজ (বর্তমানে প্রেসিডেন্ট) ও বার্গম্যান ফরাসি আণবিক শক্তি কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বরে তারা একটি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ রিঅ্যাক্টর স্থাপনে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেন। দু’টি দেশ প্যারিসের বাইরে একটি গোপন বৈঠকে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ বৈঠকেই সুয়েজ খাল অপারেশনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
১৯৫৬ সালের ২৯ অক্টোবর সুয়েজ খাল অপারেশন শুরু হয়। অপারেশন ফ্রান্স ও ব্রিটেনের জন্য পুরোপুরি বিপর্যয়ের হলেও ইসরাইলের জন্য ছিল একটি সামরিক বিজয়। ৪ নভেম্বরের মধ্যে ইসরাইল গোটা সিনাই উপদ্বীপ দখল করে নেয়। ৬ নভেম্বর সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র চাপের মুখে যুদ্ধবিরতি হয়। সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী বুলগানিন ও প্রেসিডেন্ট ক্রুশ্চেভ হুমকি দেন যে, সিনাই থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা না হলে ইসরাইলে পারমাণবিক হামলা চালানো হবে। সোভিয়েত হুমকিতে মর্মাহত হয় ফ্রান্স।
বিঃদ্রঃ বাকি লিখা পরের পোস্ট ( ২ নং) দেয়া হয়েছে
